
জাতীয় সংসদ ভবন ধোয়া-মোছার কাজ চলছে
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের স্বাগত জানাতে জাতীয় সংসদ ভবনকে প্রস্তুত করা হচ্ছে। সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ অনুষ্ঠানসহ অধিবেশনের প্রস্তুতির কাজ চলছে। শপথ গ্রহণকে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তাব্যরবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করবেন। এরপর বিকালে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির নতুন মন্ত্রিসভাও সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ নেবে।
সংসদ ভবন সূত্র জানিয়েছে, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের জন্য জাতীয় সংসদ ভবন নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে। ভবনের অভ্যন্তরে ধোয়া-মোছার কাজ চলছে এবং সবকিছু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। সংসদের বাইরে সদস্যদের বরাদ্দ করা কক্ষগুলো সাজানোর কাজও চলছে। গণঅভ্যুত্থানের সময় যেসব অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, সেগুলো মেরামত করা হচ্ছে। নির্বাচনের দুদিন পর শনিবার থেকে সেখানে শপথ অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও সংসদ সচিবালয়।
জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা গণমাধ্যমকে বলেন, দক্ষিণ প্লাজায় মঙ্গলবার সকালে সংসদ সদস্যদের এবং বিকালে নতুন সরকারের শপথের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। একই স্থানে বিকাল ৪টায় শপথ নেবে নতুন সরকারের মন্ত্রিসভা।
রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সংসদ ভবন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সেখানকার পরিস্থিতি সাধারণ দিনের মতোই স্বাভাবিক রয়েছে। সংসদ ভবনের সামনে আগের মতোই রয়েছে ফুচকা ও চটপটিসহ নানা দোকান। সড়কও রয়েছে স্বাভাবিক। চলছে নানা যানবাহন।
সংসদ ভবনে প্রবেশের গেটটি বন্ধ রয়েছে। ফটকে দায়িত্ব পালন করছেন আনসার ও পুলিশ সদস্যরা। প্রধান সড়ক থেকে সংসদের মূল ভবনের সামনে লোকজনকে কাজ করতে দেখা গেছে।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন বিভাগের ডিসি মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। যান চালচাল নিয়ন্ত্রণ করা হলে তা আগে থেকেই জানিয়ে দেওয়া হবে।
সংবিধান অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ নেওয়ার বিধান রয়েছে। শুক্রবার রাতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২৯৭টিতে জয়ীদের গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচনে বিএনপি ২০৯টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। অন্যদিকে তাদের এক সময়ের মিত্র জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোট ৭৭টি আসন পেয়ে বিরোধী দলের আসনে বসতে যাচ্ছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বাকি আসনগুলোতে জয়ী হয়েছেন।