
শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ
কারিকুলাম, শ্রেণিকক্ষ ও ধারাবাহিকতা এই তিন জায়গায় সমন্বয় আনতে পারলে বাংলাদেশ শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে পারবে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, শিক্ষার মূল ভিত্তি ভাষা ও গণিত। এই দুই জায়গায় দুর্বলতা থাকলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিশ্বমঞ্চে দাঁড় করানো কঠিন হবে।
রাজধানী ঢাকায় শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন এমপি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে মাদ্রাসার পাঁচটি ভিন্ন ধারা রয়েছে। ইংলিশ মিডিয়াম, বাংলা মিডিয়াম, কারিগরি শিক্ষা সহ নানা ধারা আছে। কিন্তু সবার জ্ঞানের ভিত্তি যেন এক মানের হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। কেউ কওমি মাদ্রাসা থেকে ষষ্ঠ শ্রেণি পাস করুক, কেউ ইংলিশ মিডিয়াম থেকে করুক, তার মৌলিক জ্ঞান যেন সমমানের থাকে।
তিনি বলেন, ভাষা ছাড়া শিক্ষা সম্ভব নয়। প্রকৌশল বা চিকিৎসা বিজ্ঞানে অনেক শব্দভিত্তিক জ্ঞানের বাংলা প্রতিশব্দ নেই। সব কিছুর অনুবাদ করতেই হবে এমন নয়, তবে পরিভাষা ব্যবহারে শৃঙ্খলা আনা যায়। ভাষা ও জ্ঞানের সম্পর্ককে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় আরও গুরুত্ব দিতে হবে।
প্রাথমিক শিক্ষায় বড় সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন তিনি। বলেন, ঝরে পড়ার হার প্রায় ১৬ শতাংশ, যা উন্নয়নশীল অনেক দেশের তুলনায় কম। তবে বাকি ৮৪ শতাংশ শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষে গেলেও মানসম্মত শিক্ষা পাচ্ছে না। শিক্ষক সংকট, পাঠ্যক্রম বাস্তবায়নে ঘাটতি এবং ধারাবাহিকতার অভাব রয়েছে।
তিনি বলেন, ধাপে ধাপে ইংরেজি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা আছে। এক রাতে সব জায়গায় তা কার্যকর করা হবে না। আগে কাঠামোগত ও ভিত্তিগত প্রস্তুতি নিতে হবে। তবে ইংরেজির আগে বাংলা ভাষা, যোগাযোগ দক্ষতা ও শব্দভিত্তিক জ্ঞানে শক্ত ভিত্তি গড়ে তুলতে হবে।
ভাষার ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ববি হাজ্জাজ বলেন, গণমাধ্যমে অনেক সময় ভাষা বিকৃতভাবে ব্যবহার হচ্ছে। বানান ও ব্যাকরণ চর্চায় অবহেলা দেখা যাচ্ছে। ভাষাকে আধুনিক করা যায়, কিন্তু বিকৃত করা উচিত নয়।
শিক্ষা খাতে দুর্নীতির বিষয়ে তিনি বলেন, গত দিনগুলোতে বিভিন্ন দপ্তরে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে দুর্নীতি গড়ে উঠেছিল। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন সব দপ্তরে দুর্নীতিতে শূন্য সহনশীলতা থাকবে। আগামী পাঁচ বছরে কোথাও কোনো ধরনের দুর্নীতিতে নিজেদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে না বলেও অঙ্গীকার করেন তিনি।
তিনি বলেন, আমরা সোনার বাংলাদেশ গড়তে চাই, ব্যক্তিগত সম্পদের পাহাড় গড়তে চাই না। দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার ভিত্তি হচ্ছে শিক্ষা। সেই ভিত্তি নিখুঁত ও দুর্নীতিমুক্ত হতে হবে।
২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তখন দেশের তরুণ, শ্রমজীবী, সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে দেশপ্রেমের প্রমাণ দিয়েছেন। এখন সেই ভালোবাসার প্রমাণ কর্মক্ষেত্রেও দিতে হবে।