
সংসদ অধিবেশন (ফাইল ছবি)
অন্তর্বর্তী সরকারের আনা জাতীয় ‘মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ রহিত করে ২০০৯ সালের আইন পুনঃপ্রচলন করে আনা বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রথম অভিবেশনে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল, ২০২৬’ বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। তবে বিলটি উত্থাপনের পর বিরোধী দলের পক্ষ থেকে জোরালো আপত্তি জানানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ ডিসেম্বর অন্তর্বর্তী সরকার ২০০৯ সালের ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০০৯’ সংশোধন করে ‘জাতীয় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ জারি করে।
বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বিলটি উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
বিলটি উত্থাপনের পর সংসদে দাঁড়িয়ে এর বিরোধিতা করেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি কলেন, ‘এই বিল পাসের মাধ্যমে ২০০৯ সালের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইনটিকে রিস্টোর (পুনঃপ্রচলন) করা হচ্ছে। বিগত বছরগুলোতে আমরা দেখেছি, এই কমিশনকে বিরোধী দল ও মত দমনে ব্যবহার করা হয়েছে। বিএনপিকে দমন করার বৈধতা দিয়েছে এই কমিশন। এমনকি আমরা কমিশনের চেয়ারম্যানকে বলতে শুনেছি—মানবাধিকার রক্ষার স্বার্থে জামায়াত নেতাকর্মীদের গুলি করা বৈধ।’
হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, ‘২০২৫ সালের অধ্যাদেশটিকে ল্যাপস (বিলুপ্ত) করে ২০০৯ সালের আইনে ফিরে যাওয়া হবে এই সংসদের জন্য একটি ব্যাকওয়ার্ড মুভ বা পশ্চাৎমুখী পদক্ষেপ। এটি জাতি পিছিয়ে পড়ার একটি টেক্সটবুক এক্সাম্পল হয়ে থাকবে।’
হাসনাত আব্দুল্লাহর বিরোধীতার জবাবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্য খুব সুন্দর বক্তৃতা দিয়েছেন। উনার বক্তৃতাগুলো পল্টন ময়দান, প্রেসক্লাব বা রাজপথের জন্য অনেক বেশি প্রাসঙ্গিক ও জুসি (রসালো)। উনি সব পড়েছেন, শুধু বিলটা পড়েননি। বিলের প্রথম লাইনেই দেওয়া আছে যে, সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে অধিকতর পরামর্শ ও যাচাই-বাছাই করার প্রয়োজনে এবং মানবাধিকার কমিশনের জায়গাটি যাতে ফাঁকা না থাকে, সেই কারণেই আপাতত ২০০৯ সালের আইনটি রেস্টোর করা হয়েছে।’
আইনমন্ত্রী সংসদকে জানান, অধ্যাদেশ ‘রহিত’ রিফিল করা হলে আর ২০০৯ সালের আইনটি রিস্টোর না করা হলে বিশ্ববাসী জানবে বাংলাদেশে মানবিধকার কমিশন নেই।