প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বর্তমান সরকারের ১০০ দিনের কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন মাহদী আমিন। ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, অপপ্রচারের বিপরীতে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ জনমুখী ও মানবিক শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করেছে। তিনি আরও বলেছেন, অতীতে ভুক্তভোগী ও সাধারণ মানুষকে বিচারের আশায় গণভবনের সামনে দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হতো। কিন্তু গত ১০০ দিনে সেই প্রথা ভেঙে প্রধানমন্ত্রী নিজেই জনগণের দুয়ারে পৌঁছে যাচ্ছেন।
আজ সোমবার বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের ১০০ দিনের কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন মাহদী আমিন।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড কিংবা মেহেরপুরে শিশু ধর্ষণের ঘটনায় দ্রুততম সময়ে বিচার নিশ্চিত করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এই নির্বাচিত সরকার। সরকার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, কোনো ধরনের অপপ্রচার বা সামাজিক অস্থিতিশীলতা তৈরির অপচেষ্টায় বিভ্রান্ত না হয়ে ২০ কোটি মানুষের সম্মিলিত শক্তিতে একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও সচ্ছল বাংলাদেশ বিনির্মাণের অভিযাত্রা অব্যাহত থাকবে।’
মতপ্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার সুযোগ নিয়ে একটি গোষ্ঠী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নৈরাজ্য সৃষ্টি এবং অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেছেন, ‘অনেকেই বাক্ স্বাধীনতার অপব্যবহার করছেন। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।’
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মাহদী আমিন বলেন, রক্তস্নাত জুলাই গণ-অভ্যুত্থান এবং দীর্ঘ ১৬ বছরের ত্যাগ-সংগ্রামের পর জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে গঠিত এই গণতান্ত্রিক সরকার গণমাধ্যম ও নাগরিকদের সর্বোচ্চ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলের গুম, খুন, মামলা-হামলা ও বলপ্রয়োগের সংস্কৃতি ভেঙে গত ১০০ দিনে উদারতা ও সহিষ্ণুতার এক নতুন মানদণ্ড স্থাপন করা হয়েছে। তবে দুঃখজনকভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, এই স্বাধীন পরিবেশকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে একটি গোষ্ঠী প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা, অশোভন আচরণ ও অশালীন কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে।
মাহদী আমিন বলেন, সরকার একদিকে মানবাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে, অন্যদিকে সমাজ ও রাষ্ট্রে বিশৃঙ্খলা তৈরির যেকোনো অপকৌশল রুখে দিতেও সমানভাবে তৎপর। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে ধারণ করার অর্থ এই নয় যে, এর সুযোগ নিয়ে রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা নষ্ট করা যাবে।
এক প্রশ্নের জবাবে মাহদী আমিন বলেন, সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের বিচার সরকারের অগ্রাধিকার। আগামী দিনে অবশ্যই বিষয়টি দৃশ্যমান হবে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, মত প্রকাশের স্বাধীনতার নামে তুচ্ছতাচ্ছিল্য ও কারও চরিত্র হনন করা স্বাধীনতা নয়।
https://gsnewsbd.com/news/national/1f158290-8add-6730-9f3c-782bbd847398