বাসস

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিএমও
রাজধানীর তীব্র যানজট নিরসন, গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরানো এবং ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়নে তেজগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাতটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন।
গতকাল শনিবার প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে তাঁর তেজগাঁও কার্যালয়ে এক বৈঠকে তিনি এসব নির্দেশনা দেন।
বৈঠকে ঢাকা মহানগরীর চলমান যানজট পরিস্থিতি, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ফ্লাইওভারে যানবাহনের চাপ, গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা, বাস টার্মিনাল পুনর্বিন্যাস, পার্কিং ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
পরে প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এসব কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা, সেগুলোর বাস্তবায়ন মেয়াদ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিবরণ:
১. ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ETC) ও চার মাসের মধ্যে অ্যাপ চালু
মূল উদ্দেশ্য: ফ্লাইওভার ও এক্সপ্রেসওয়েগুলোর টোল প্লাজায় সময় অপচয় কমানো ও আদায় প্রক্রিয়া দ্রুত করা।
কার্যক্রম: এক্সপ্রেসওয়ে ও ফ্লাইওভারের টোল প্লাজাগুলোতে দ্রুত ‘ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন’ (ইটিসি) চালুর নির্দেশ। টোল পরিশোধ সহজ করতে একটি ডেডিকেটেড মোবাইল অ্যাপ তৈরি করতে হবে।
সময়সীমা: আগামী ৪ মাস।
২. ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনাল কেরানীগঞ্জে স্থানান্তর ও অস্থায়ী টার্মিনাল নির্মাণ
মূল উদ্দেশ্য: ঢাকার কেন্দ্রীয় অংশ থেকে আন্তজেলা বাসের চাপ কমানো।
কার্যক্রম: ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনাল স্থায়ীভাবে কেরানীগঞ্জে সরিয়ে নেওয়ার জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জমি অধিগ্রহণ করা হবে।
অস্থায়ী ব্যবস্থা: স্থায়ী টার্মিনাল না হওয়া পর্যন্ত আগামী ৪ মাসের মধ্যে কেরানীগঞ্জের ‘ঝিলমিল’ প্রকল্পের ১৫ একর জমিতে একটি অস্থায়ী টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে।
৩. গাবতলী বাস টার্মিনালের পেছনের অংশ সম্প্রসারণ
মূল উদ্দেশ্য: টার্মিনালের পরিবহন ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি ও সড়কে বাসের শৃঙ্খলা ফেরানো।
কার্যক্রম: গাবতলী বাস টার্মিনালের পেছনের অংশ সম্প্রসারণ করা হবে।
বাস্তবায়নকারী সংস্থা: সড়ক বিভাগ, ট্রাফিক পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে এই কাজ সম্পন্ন করবে।
৪. যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান ফ্লাইওভারের যানজট নিরসনে বুয়েটের সুপারিশ
মূল উদ্দেশ্য: ফ্লাইওভার সংলগ্ন দীর্ঘদিনের জটিল যানজট পয়েন্টগুলোর সমাধান করা।
কার্যক্রম: বুয়েটের পূর্ববর্তী মূল্যায়ন প্রতিবেদন পুনর্বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় নতুন সুপারিশমালা পেশ করতে বলা হয়েছে।
সময়সীমা: ১৫ দিন।
বাস্তবায়নকারী সংস্থা: বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক পুলিশ যৌথভাবে।
৫. কারওয়ান বাজার স্থানান্তর ও সচিবালয় কেন্দ্রিক পার্কিং ব্যবস্থাপনা
মূল উদ্দেশ্য: সেন্ট্রাল বিজনেস বোর্ড ও সরকারি প্রশাসনিক এলাকার যানজট নিরসন।
কার্যক্রম: কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেট সরিয়ে গাবতলীতে নেওয়া। সচিবালয় এলাকার বিকল্প পার্কিং হিসেবে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন এলাকা ব্যবহারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা ও অন্যান্য পার্কিং স্থান নির্ধারণ করা।
৬. অটোরিকশা চলাচলে পৃথক নীতিমালা প্রণয়ন
মূল উদ্দেশ্য: ঢাকা শহরে অটোরিকশা চলাচল সুসংহত, সুশৃঙ্খল ও অনিয়ন্ত্রিত যানবাহনের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা।
কার্যক্রম: দ্রুততম সময়ের মধ্যে অটোরিকশার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা জারি করা।
৭. অবৈধ ‘ডাবল ডেকার স্লিপার বাস’ বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ
মূল উদ্দেশ্য: ফিটনেসহীন ও অনুমোদনহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ এবং সড়ক নিরাপত্তা জোরদার।
কার্যক্রম: অনুমোদন ছাড়া চলাচলকারী সব ডাবল ডেকার স্লিপার বাসের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উল্লেখ করেন, প্রতিটি প্রকল্প ও নির্দেশনার নির্ধারিত সময়সীমা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে এবং সড়ক পরিবহন, ট্রাফিক পুলিশ, স্থানীয় সরকার বিভাগ ও সিটি করপোরেশনের মধ্যে নিয়মিত আন্তঃসমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।