স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করেন অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল
স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও সুসংহত করে জনগণের জীবনমান উন্নয়ন এবং গণতান্ত্রিক ধারাকে শক্তিশালী করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।
আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইলের সৌজন্য সাক্ষাতে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে মন্ত্রী স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর বিভিন্ন কার্যক্রম এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে এসব প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য সরকার বদ্ধপরিকর।
ড. আবদুল মঈন খান জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা স্থানীয় সরকারসংক্রান্ত পাঁচটি অধ্যাদেশ নতুন সরকার আইন হিসেবে জাতীয় সংসদে পাস করেছে। সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদসংক্রান্ত এসব আইনে দলীয় মনোনয়ন ও জাতীয় প্রতীকে নির্বাচনের বিধান বিলুপ্ত করা হয়েছে।
বৈঠকে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিকেন্দ্রীকরণ ও ক্ষমতার ভারসাম্য, নারী ক্ষমতায়ন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, নিরাপদ পানি সরবরাহ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়।
এ ছাড়া উচ্চশিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণে সহযোগিতা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।
অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল দুই দেশের বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি সুশাসন, নারী ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণে অস্ট্রেলিয়ার আগ্রহের কথা জানান।
বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ক্রমবর্ধমান নগরায়ণের ফলে দেশে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বর্জ্যকে সম্পদে পরিণত করার পাশাপাশি বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।
তিনি বলেন, পরিবেশ সুরক্ষা ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো জরুরি। এ ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দুই দেশের মধ্যে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।
বৈঠকের শুরুতে মন্ত্রী হাইকমিশনারকে স্বাগত জানান। হাইকমিশনার নতুন পোর্টফলিওতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রীকে আন্তরিক অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন
সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে বৈঠকের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
https://gsnewsbd.com/news/national/1f1ab649-6b85-6c60-9d8b-003e8fce893a