ঢাকার ৯৮ বাস রুট কমে ৩২, সাত রুটে পরীক্ষামূলক চলাচল শুরু
রাজধানীতে বাস চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরাতে ৯৮টি বাস রুট পুনর্বিন্যাস করে ৩২টিতে নামিয়ে আনা হয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি সাধারণ রুট এবং একটি চক্রাকার রুটসহ মোট সাতটি রুটে পরীক্ষামূলকভাবে কোম্পানিভিত্তিক বাস চলাচল শুরু হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় প্রতিটি কোম্পানির বাস নির্ধারিত রুটে শৃঙ্খলার সঙ্গে চলাচল করবে। পাশাপাশি ৩২টি রুটের জন্য পৃথক রং ও নম্বর নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীতে বাস রুট রেশনালাইজেশন কার্যক্রমের আওতায় সাতটি রুটে কোম্পানিভিত্তিক বাস চলাচলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, দীর্ঘদিনের একটি পরিকল্পনা আজ বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে। এর আগে বাস রুট রেশনালাইজেশনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাস মালিক ও শ্রমিকদের অসহযোগিতা, সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের অনাগ্রহ এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। একপর্যায়ে ঢাকাবাসীর মনে হয়েছিল, এই উদ্যোগ হয়তো আর বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।
তিনি বলেন, অ্যাডভোকেট শিমুল বিশ্বাস ও ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) নির্বাহী পরিচালক মশিউর রহমানের প্রত্যক্ষ দিকনির্দেশনা ও নেতৃত্বে ডিএমপি, বিআরটিএ এবং বাস মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর সহযোগিতায় পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন শুরু হচ্ছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে, বিশেষ করে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেন, আগে ঢাকা মহানগরীতে ৯৮টি বাস রুট ছিল। এসব রুটে বিভিন্ন ব্যানারে বাস চলাচল করত। বাসগুলোর মধ্যে আগে যাওয়ার অসুস্থ প্রতিযোগিতা চলত। এতে যানজট ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতো। একটি বাসের সঙ্গে অন্য বাসের ধাক্কাধাক্কি ও সংঘর্ষে দুর্ঘটনা ঘটত। এসব দুর্ঘটনায় অনেক মানুষের প্রাণহানিও হয়েছে।
তিনি বলেন, পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য ৯৮টি বাস রুট পুনর্বিন্যাস করে ৩২টিতে নামিয়ে আনা হয়েছে। আগের রুটগুলোতে বিভিন্ন ব্যানারে চলাচলকারী বাসগুলোকে নতুন ৩২টি রুটের আওতায় আনা হয়েছে। এর মধ্যে আজ ছয়টি রুটে পরীক্ষামূলকভাবে বাস চলাচল শুরু হয়েছে। আগে এসব ছয়টি রুটে প্রায় ১৮টি ব্যানারে বাস চলাচল করত। কোনো রুটে তিনটি, কোনো রুটে চারটি, আবার কোনো রুটে দুটি ব্যানারের বাস ছিল।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, এসব ব্যানারের বাসকে ছয়টি কোম্পানির আওতায় আনা হয়েছে। প্রতিটি কোম্পানির জন্য একটি করে রুট নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ ছয়টি কোম্পানি ছয়টি পৃথক রুটে বাস পরিচালনা করবে। প্রতিটি কোম্পানির আলাদা নাম রয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় একই কোম্পানির বাসগুলো একটির পেছনে আরেকটি শৃঙ্খলার সঙ্গে চলাচল করবে। এতে বাসগুলোর মধ্যে আগের মতো অসুস্থ প্রতিযোগিতা থাকবে না বলে আশা করছি।
বাস চলাচলে বিশৃঙ্খলার আরেকটি কারণ তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমানে অনেক চালক ও কন্ডাক্টর মালিকের কাছ থেকে চুক্তিতে বাস নিয়ে পরিচালনা করেন। বেশি আয় ও মুনাফার জন্য তারা বেশি ট্রিপ দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ ব্যবস্থা পরিবর্তনের জন্য বাস মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর কাছে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, বাসচালক ও শ্রমিকদের চুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থার পরিবর্তে বেতনভিত্তিক নিয়োগের মাধ্যমে বাস পরিচালনা করতে হবে। সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো দ্রুত এ ব্যবস্থা কার্যকর করতে পারবে।
২৫টি চক্রাকার বাস রুটের বিষয়ে মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেন, ডিটিসিএর মাধ্যমে ঢাকা শহরে ২৫টি চক্রাকার বাস রুট নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব রুটে ২৭ আসনের ছোট আকারের মিনিবাস চলবে। বাসগুলো নিজ নিজ নির্ধারিত এলাকায় সারা দিন চক্রাকারে চলাচল করবে।
তিনি বলেন, ২৫টি চক্রাকার রুটের মধ্যে প্রথম পর্যায়ে পাঁচটিকে পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। এর মধ্যে আজ একটি রুটে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত (এসি) বাস দিয়ে চলাচল শুরু হয়েছে। বাকি চারটি রুটে চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় মিনিবাস এখনো হাতে পাওয়া যায়নি। এরইমধ্যে এসব বাসের অর্ডার দেওয়া হয়েছে। আগামী দেড় থেকে দুই মাসের মধ্যে বাসগুলো পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাস হাতে পেলেই বাকি চারটি রুটেও চলাচল শুরু হবে।
তিনি আরও বলেন, নতুন ৩২টি বাস রুটের প্রতিটির জন্য পৃথক রং নির্ধারণ করা হবে। প্রতিটি রুটের বাসে আলাদা রং ও নম্বর থাকবে, যাতে যাত্রীরা সহজেই বাস ও রুট শনাক্ত করতে পারেন। তবে সময়ের স্বল্পতার কারণে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া ছয়টি সাধারণ ও একটি চক্রাকার রুটের বাসগুলো এখনো নির্ধারিত রঙে রং করা সম্ভব হয়নি। দ্রুত এ কাজ সম্পন্ন করা হবে।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাস রুট রেশনালাইজেশনের মাধ্যমে ঢাকা মহানগরীতে একটি আধুনিক, পরিকল্পিত, সমন্বিত ও বিশ্বমানের গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মসিউর রহমান, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের আর্নান ট্রান্সপোর্ট অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. আনিসুর রহমান, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশনের (বিআরটিসি) চেয়ারম্যান মীর আহমেদ তারিকুল ওমর, ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি এম. এ. বাতেন, সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল আলম।
https://gsnewsbd.com/news/national/1f1d5cfd-f9f6-6d70-9011-52f77d3558cb